আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের রিজিকের জন‍্য চিন্তা করতে হয়না

আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের রিজিকের জন‍্য চিন্তা করতে হয়না—

হুজুর শেখ ফরিদ (রহ.) আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, মাওলানা নিজামুদ্দিন, যে ব্যক্তি খোদার ইবাদত করে এবং তাঁর খেদমতের প্রাপ্যের মধ্যে কসূর না করে আল্লাহ তায়ালাও তারসন্তুষ্টিতে কাজ করেন।
 বদখশান দেশে শায়খ ওয়াহেদুন্নবীয়ায়ে জুনুন মিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি শহরের বাইরে এক নির্জন গোহায় বাস করতেন। তিনি শ্রেষ্ঠতর সোপানে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর এক পাও গোহার ভিতরে ছিলো অন্য পা কেটে গোহার বাইরেফেলে রেখে ছিলেন। এক পায়ের উপর ভর করেই তিনি ঐশী-অচৈতন্য-লোকে নিমজ্জিত ছিলেন। আমি তাঁর নিকট যেয়ে সালাম পেশ করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বসতে বলে পুনরায় ধ্যান-মগ্ন হলেন। আমি তাঁর নির্দেশানুযায়ী বসে রইলাম। তিনি তিন দিবারাত্র ঐ হালে থাকার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন। তারপর আমাকে বললেন, হে ফরীদ, আমার কাছে এসো না, এলে চলে যাবে এবং দূরেও থেকো না, তাহলে বিযুক্ত থাকবে। কিছু কথা শুনেযাও। ৭০ বছর হলো আমি এ গুহায় বাস করছি। অদৃশ্য জগত হতে আমার আহার আসে।একবার এই রাস্তা দিয়ে এক মহিলা যাচ্ছিলো, তার প্রতি আমার দৃষ্টি পতিত হওয়ায় আমার অন্তরে কিছু বদখেয়ালের সৃষ্টি হলো আমি গুহা হতে বাইরে বেরুবার ইচ্ছা করলাম। হঠাৎ গায়েবী আওয়াজ হলো, ওহে প্রার্থনাকারী, তোর কি এই ইচ্ছা ছিল যে আমাকে ছাড়া অন্যকেও কামনা' করবি? এ আওয়াজ শুনার পর আমার মনে ধিক্কার এলো। চাকু আমারকোমরে ছিলো বের করে যে পাটা বাইরে বের করেছিলাম সেটা কেটে তৎক্ষণাৎ ফেলে দিলাম। এ ঘটনা ঘটেছে আজ হতে ৩০ বছর আগে। আমি চিন্তিত আছি এ জন্য যে, কিয়ামতের দিন যখন ঐ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হবে তখন কি জবাব দিব? 
এরপর শায়খুল ইসলাম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, সে রাত আমি সেখানেই ছিলাম ইফতারের সময় কিছু দুধ ও দশটি খোরমা উর্ধ্বলোক হতে নেমে এলো। আমি দুধের বাটী আর খোরমা তার সম্মুখে রাখলাম। তিনি বললেন হে ফরীদ, প্রতি দিন পাঁচটা খোরমা আসে, আজঅধিক যা এসেছে তা তোমার জন্য। এসো আহার করি। আমি আদাব রক্ষার জন্য তাঁর আদেশ পালন করলাম। অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি পুনরায় ধ্যানমগ্ন হয়ে ঐশী-অচৈতন্যলোকে গমন করলেন। 

আল্লাহর ওলিদের জন‍্য সবই সহজ 

No comments:

__