দরবেশগণ নফল নামাজও গুরুত্ব সহকারে পালন করেন

দরবেশগণ নফল নামাজও গুরুত্ব সহকারে পালন করেন
শুক্রবার ১১ই শাবান ৬৫৫ হিজরী। কদমবুসি করে ধন্য হলাম। বেনামাজীদের সম্বন্ধেআলোচনা চলছিলো। তিনি (শেখ ফরিদএরশাদ করলেনবেনামাজী অবশ্যই নিজের কর্তব্যপালন করেনা।

 এরপর বললেনগজনীর এক মসজিদে একবার আমার রাত্রি যাপনের সুযোগ হয়েছিলো। সেখানে কয়েকজন দরবেশ বাস করতেন। তাদের প্রত্যেকেই এমন ভাবে ধ্যানমগ্ন ছিলেন যা বর্ণনা করে বুঝানো সম্ভব নয়। ভোর হওয়ার পর সেখানে থেকে একটা জলাসয়ের নিকট পৌঁছলাম। পূর্ব হতেই সেখানে একজন মহিমান্বিত বুজুর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম জানালাম। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে আমাকে বসতে বললেন। আমি তাঁর নির্দেশ পালন করলাম। তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর শরীর ছিলো জীর্ণ-শীর্ণ-ক্লিষ্ট। আমি তাঁর দেহের  করুণ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেনআমার পেটের অসুখ। আমি সারাদিন তাঁর খেদমতে কাটালাম। যখন রাত হলো তখন তাঁর অসুখ বেরে গেলো। তাঁর অভ্যাস ছিলো প্রত্যেক রাতে ১২০ রাকাত নফল নামাজ পাঠ করা। অভ্যাস মতো তিনি নামাজে দাঁড়ালেন কিন্তু দু'রাকাত পড়ার পর তাঁর পায়খানার বেগ হলো। তিনি পায়খানা করে গোসল করে এসে পুনরায় নামাজে দাঁড়ালেন। কিন্তু দু'রাকাত পড়ার পর আবারও তাঁর পায়খানার বেগ হলো। তিনি পায়খানা করে আবার গোসল করে এসে নামাজে দাঁড়ালেন। কিন্তু এবারও তিনি দু'রাকাতের অধিক পড়তে পারলেন নাপুনরায় তাঁর পায়খানার বেগ হলো এবং তিনিবের হয়ে গেলেন। পায়খানা করে ফিরার পথে তিনি গোসল করে এসে নামাজে দাঁড়ালেন।কিন্তু এবারও সেই একই অবস্থা দু'রাকাতের বেশী পড়তে পারলেন না। এভাবে তিনি তাঁর প্রত্যেক দিনের অভ্যাসকে জীবিত রাখতে যেয়ে ১২০ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য ৬০ বার গোসল করলেন এবং শেষ বার গোসল করার পর নামাজের শেষ রাকাতে শেষ সেজদার মধ্যে ইন্তেকাল করলেন। সোবহানাল্লাহকেমন মজবুত আকিদার লোক ছিলেন তিনিনিজের অজিফা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পূর্ব মুহূর্তেও পরিপূর্ণ করে তারপর দুনিয়া ত্যাগ করলেন।

এরপর এরশাদ করলেন যখন কারও কোন অসুখ হয় তখন তার বুঝা উচিত তার অর্জিত গোনাহ্ হতে সে পবিত্র হচ্ছে। 

পরবর্তী পর্ব —
অন্তরে পাপ ব‍্যাবসার জন‍্য ক্ষতিকর—

No comments:

__