যে কারণে পীর ও মুরীদ উভয়েই গোমরাহীতে থাকবে
📚রাহাতুল ক্বুলুব ✍🏻নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.)
হযরত শায়খুল ইসলাম শেখ ফরিদ গঞ্জশেখর (রহ.) মজলিসের সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন যে,
পীরকে এমন ক্ষমতাবান ও অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া দরকার, যখন কোন ব্যক্তি মুরীদ হওয়ার জন্য আসে তখন সে পীর একটি মাত্র দৃষ্টি নিক্ষেপের মাধ্যমে তার অন্তরের সমস্ত দুনিয়াবী প্রেম ও আবর্জনা এমনভাবে বের করে দিবে যেন তার অন্তর স্বচ্ছ আয়নার মতো হয়ে যায়।
যদি তার মাঝে এমন ক্ষমতা না থাকে তাহলে তার মুরীদ করা উচিত নয়। যদি করে তাহলে অপরকে বিভ্রান্ত (গুমরাহ করার অপরাধে অপরাধী) হবে।
যখন কোন ব্যক্তি কোন সাহেবে সেজদার (সেজদায় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি) নিকট বয়েত হওয়ার জন্য আসে তখন ঐ বুজুর্গের উচিত তার গতি, অবস্থান ও তিন প্রকার নফসের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করা।
প্রথমে দেখতে হবে যে তার নফ্স্, নফ্সে আম্মারা তো নয়। দ্বিতীয়তঃ দেখতে হবে সে নফসে লাওওয়ামার মধ্যে কি না। তৃতীয়তঃ দেখার বিষয় হচ্ছে নফ্স্ মোতমায়িন্না এবং তার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপের মাধ্যমে তাকে নফ্সে মুতমায়িন্নার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ।
নফসে আম্মারা সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন – “বাস্তবিক কোন নফ্সই মুক্ত নয়।” নফসে আম্মারা খারাপ শিক্ষাই প্রদান করে।
নফ্সে লাউওয়ামা সম্বন্ধে পবিত্র কোরানের বাণী হলো— “এবং কসম নফসে লাউওয়ামার।”
নফসে মুতমায়িন্না সম্বন্ধে আল্লাহ্তায়ালা বলেছেন— “হে নফ্সে মুতমায়িন্না তুমি ধাবিত হও তোমার প্রভুর প্রতি সন্তুষ্ট চিত্তে যেন তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হন।”
এরপর শায়খুল ইসলাম বললেন, মুরীদ সগুণে গুণান্বিত কিনা তা তাকে দেখতে হবে। তারপর সমস্ত কিছু বিচার-বিবেচনার পর বয়াত করার জন্য তার প্রতি হাত বাড়িয়ে দিবে এবং বয়াতের মর্যাদা দানে সম্মানিত করবে এবং নিয়মানুযায়ী মাথায় কাঁচি চালাতে হবে।
যদি কোন পীর বা আহলে সুলুক মুরিদানের মাথায় কাঁচি চালাতে না জানে বা চুল ধরার কায়দা না জানে তাহলে বুঝবে সে পীর মরুভূমি সমতুল্য গোমরাহীতে (অজ্ঞতায়) আছে । আর তার মুরীদের কথা বলার প্রয়োজন তো মোটেই বাঞ্ছিত মনে করি না । কেননা যেখানে পীর নিজেই রাস্তা চিনে না, তখন সে মুরীদকে রাস্তা দেখাবে কি করে? চিরদিন পীর ও মুরীদ উভয়েই গোমরাহীতে থাকবে

No comments:
Post a Comment