পীরের প্রতিটি কথাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে মুরীদের স্মরণ রাখা উচিৎ —
📚রাহাতুল ক্বুলুব ✍🏻নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.)
হযরত সুলতানুল মাশায়েখ মাহবুবে এলাহি নিজামউদ্দীন আউলিয়া কুদ্দেসি সির রুহুল আজীজ তার রচনায় বর্ণনা করেছেন যে ৬৫৫ হিজরীর রজব মাসের ১০ তারিখে বুধবার আমি হযরত সায়্যেদুল আবেদীন সন্দুল আরেফীন খাজা শায়খ ফরিদউদ্দীন মাসউদ গঞ্জেশকর্ রহমতুল্লাহি আলাইহির কদমবুসি লাভের সৌভাগ্য অর্জন করলাম। তিনি তাঁর পবিত্র দয়া ও করুণা দ্বারা আমাকে শিষ্যত্বে স্থান দিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে কুল্লাহ চাহার তকী (চার টুকরা কাপড়ের তৈরী এক ধরনের টুপী) তাঁর খিরকার (আজানু লম্বা জামা) পকেট হতে বের করে আমাকে পরিয়ে দিলেন এবং সেই সঙ্গে তাঁর নিজের পবিত্র খিরকা ও এক জোড়া খড়মও দান করলেন এবং এরশাদ করলেন, "আমার ইচ্ছা ছিলো হিন্দুস্থানের বেলায়েত কোন অন্য ব্যক্তিকে প্রদান করবো কিন্তু তুমি রাস্তায় ছিলে তাই আমার প্রতি আল্লাহ্ তায়ালার ইলহাম হলো, "এ নেয়ামত নিজামউদ্দীনের প্রাপ্য, যখন সে আসবে, তাকে দান করবে।"
এরপর আমার ইচ্ছা হলো প্রারম্ভিক প্রেমের নিদর্শন স্বরূপ আর একবার কদমবুসি করবো। কিন্তু তাঁকে দেখার পর এমন বিহ্বল ও ভীত হয়ে পড়লাম যে আমি আমার সমস্ত ইচ্ছা ও বাসনা ভুলে গেলাম। হুজুর তাঁর আলোকিত অন্তর দ্বারা আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বললেন, আমার প্রতি তোমার প্রেম উত্তপ্ত ও অত্যধিক ছিলো। তারপর বললেন, “লাকুল্লি দাখেলুন দাহাস্তা”
অর্থাত "প্রত্যেক নব্য প্রবেশকারীর মনেই এরূপ ভয় সঞ্চারিত হয়ে থাকে।"
অর্থাত "প্রত্যেক নব্য প্রবেশকারীর মনেই এরূপ ভয় সঞ্চারিত হয়ে থাকে।"
এরপর বললেন, "আমার প্রতি খেয়াল করো আমি যা বলি তা অতি যত্নে মনে রাখো।”
আমি ভুলে যাবো এ সন্দেহে তিনি পুনরায় বললেন, “সেই সব মুরীদই ভাগ্যবান যারা পীরের মুখ হতে নিঃসৃত বাণী অতি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে এবং লিখে রাখে । যারা এরূপ করে তারা প্রতিটি অক্ষরের জন্য হাজার বছর ইবাদতের ছওয়াব লাভ করবে এবং ইহলোক ত্যাগ করার পর শ্রেষ্ঠ বেহেস্তে স্থান পাবে।”
তারপর তিনি নিম্নোক্ত কবিতার পংক্তি দু'টো আমাকে শোনালেন।
অনুবাদ : “হে বিচ্ছেদের অগ্নি করেছো কাবাব তার অন্তর,
আকাঙ্ক্ষার বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে যার প্রাণ”।
এরপর এরশাদ করলেন যে, লোকদের এমন থাকা উচিত যেন মুহাব্বাত তাদের প্রতি সর্বাবস্থায় বর্ষিত হয়, কেননা এমন কোন মুহূর্ত অতিবাহিত হয় না যখন অন্তরে এ আওয়াজ না আসে যে,
“জিন্দা দিল ওহ হ্যায় জিসমে মুহাব্বাতে খোদা হ্যায়”। অর্থাৎ "সেই অন্তরই জীবিত যার মাঝে খোদার মুহাব্বাত বিদ্যমান।"
পরবর্তী পর্ব —
দরবেশী
দরবেশী

No comments:
Post a Comment