দরবেশের শর্ত
📚রাহাতুল ক্বুলুব ✍🏻নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.)
দরবেশের উচিত এ চারটি কথা স্মরণ রাখা। যদি এ চার জিনিস তার মাঝে না দেখা যায় তা হলে তাকে দরবেশ বলা চলবেনা।
(১) আল্লাহর বান্দাদের দোষ-ত্রুটি হতে নিজের চোখকে বন্ধ করে রাখা।
(২) অকথ্য কথা শ্রবণ করা হতে নিজের কানকে বধির করে রাখা।
(৩) আয়াশ আরামের আলোচনা হতে নিজের জিহ্বাকে বোবা করে রাখা।
(৪) নফসের খায়েসে যদি পা কোন নাজায়েজ বা কোন অপ্রয়োজনে কোথাও যেতে চায় তাহলে তাকে ল্যাংড়া করে রাখা।
যখন এ চার জিনিস তার হাসেল হবে তখন তাকে দরবেশ বলবে, তা না হলে সে মিথ্যা দরবেশীর দাবীদার।
এরপর বললেন, শায়খ শিহাবউদ্দিন ওমর সোহ্রাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৪০ বছর চোখে পর্দা (পট্টী) বেঁধে রেখেছিলেন। কোন একজন এর কারণ 'জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, পট্টী এ জন্য বেধেছি যে মানুষের দোষ ত্রুটি যেন চোখে না পড়ে। তোমরা কেউ যদি এ রকম কিছু দেখো তা হলে উচিত হবে তা কারও কাছে প্রকাশ না করা।
এরপর হযরত শায়খুল ইসলাম মোরাকাবায় বসলেন। অনেকক্ষণ পর্যন্ত মোরাকাবায় অতিবাহিত করার পর মাথা উত্তোলন করে আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন, দরবেশদের এমন হওয়া উচিত নয় যে, যেভাবে তার ইচ্ছা হবে সেভাবেই চলবে। যখন শায়খুল ইসলাম আলোচনায় ব্যস্ত তখন মুহাম্মদ শাহ নামে তাঁর এক পীর ভাই খেদমতে উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে বসার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশানুযায়ী সে বসে পড়লো। কিন্তু তার চেহারায় একটা বিশাদের ছাপ লেগেছিলো। কারণ তার ভাই মৃত্যু পথের যাত্রী ছিলো। হযরত শায়খুল ইসলাম তাঁর আলোকিত অন্তর দ্বারা পীর ভাইয়ের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন, "এখন অবস্থা কেমন?" তার উত্তরের অপেক্ষা না করে তিনি বললেন, "ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যাও তোমার ভাই সুস্থ হয়ে গেছে।”
মুহাম্মদ শাহ আদবের সঙ্গে উঠে আদব সহকারে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়ীর দিকে রওনা হলো। যখন বাড়ীতে পৌঁছলো তখন দেখলো যে তার ভাইয়ের অসুস্থতা দূর হচ্ছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলো। তার শরীরে তখন আর অসুস্থতার কোন চিহ্নমাত্র অবশিষ্ট নেই।
এরপর হযরত শায়খুল ইসলাম এরশাদ করলেন যে হযরত আলী কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু খুতবার মাঝে প্রায়ই পাঠ করতেন, 'আমি হযরত রাসুলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে জীবনেও দেখিনি যে তাঁর নিকট কোন নজর হাদিয়া পৌঁছলে তা তিনি সকাল হতে সন্ধ্যার মধ্যে বিলিয়া না দিতেন। অর্থাৎ সন্ধ্যার সময় তাঁর নিকট কোন নজর হাদীয়ার জিনিস অবশিষ্ট থাকতো না।
পরবর্তী পর্ব —
অপব্যায়
অপব্যায়

No comments:
Post a Comment