দুনিয়াদার লোক পশমী পোষাক পড়া অনুচিত (রাহাতুল ক্বুলুব)



দুনিয়াদার লোক পশমী পোষাক পড়া অনুচিত 
📚রাহাতুল ক্বুলুব ✍🏻নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.) 

এরপর তিনি আমার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেনআসলে  পথে পবিত্র অন্তঃকরণের প্রয়োজন। পবিত্র অন্তঃকরণ সেই লাভ করতে পারে যে প্রতিটি হারাম কর্ম হতে দূরে থাকে এবং দুনিয়াদারদের নিকট হতে পালিয়ে বেড়ায়। এমন না হলে তাদের কম্বল  পশমী বস্ত্রপরিধান করা উচিত নয়। কেননা কম্বল হযরত মূসা কলিমুল্লাহ আলাইহিস্ সালামহযরত আদামু সফিউল্লাহ আলাইহিস্ সালামহযরত ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম  হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দ্বারা সম্মানিত। 

এরপর এরশাদ করলেন যেআমি হযরত খা'জা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট শুনেছিতিনি বলেছিলেনআমি হযরত খা'জা মওদুদ চিন্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খেদমতে ১০ বছর উপস্থিত ছিলাম।  সময়ের মধ্যে আমি কোন দিনও তাঁকে কোন ধনী ব্যক্তিবা কোন বাদশাহের সাথে সাক্ষাৎ করতে দেখিনি। শুধুমাত্র জুমআ' নামাজ পড়ার জন্য তিনি তাঁর বাসস্থান হতে জামে মসজিদে গমন করতেন। হযরত খা'জা মওদুদ চিন্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পবিত্র মুখে আমি শুনেছি যখন কোন দরবেশ কোন বাদশাহ্ অথবা ধনী ব্যক্তিদের দরজায় পা রাখে তখন তার কম্বল  সাথের দরবেশী জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়া উচিত। প্রথমে তাকে নিষেধ করে সতর্ক করতে হবে যদি সে পথে না আসে তাহলে তার কম্বল ও খিরকা যা সে পরিধান করে সে সমস্ত আগুনে নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেয়া দরকার। কেননাদুনিয়া  দুনিয়াদারদের সঙ্গলাভকারী কখনও দরবেশ হতে পারে না।  ধরনের দরবেশীর দাবীদার প্রতারক  মিথ্যাবাদী। 

এরপর তিনি বললেনযখন কোন আহলে সূফফা (সুফীগণবা কম্বল পরিধানকারীর কোন কিছুর প্রয়োজন হয় তখন সে দরবেশী পোষাক পরিধান করে গলায় শিকল লাগিয়ে ইলাহির দরবারে প্রার্থনা করে: 'ইয়া ইলাহি দরবেশী পোষাকের বরকতে আমার প্রয়োজন মিটিয়ে দাও।তখন আল্লাহতায়ালা তার সমস্ত প্রয়োজন মিটিয়েদেন। 

তিনি এরপর বললেনযে ব্যক্তি পশমী জামা পরিধান করে তার উচিত নয় যে সে কোনচর্বি বা দুগ্ধজাত খাদ্য আহার করে এবং যে ব্যক্তি আহলে সুলুকের পোষাক পরিধান করে কোন বাদশাহ্ বা দুনিয়াদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং  কাজকে উত্তম মনে করে তাহলে তার পোষাক সালেকদের মধ্যে বিশ্বাসভঙ্গকারী রূপে চিহ্নিত হয়। 

তারপর তিনি বললেনইসরারুল আরেফীন কিতাবে বর্ণিত আছে যেকোন এক ব্যক্তি হযরতজুন্নুন মিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট আরজ করলোআপনার এক মুরীদ বাদশাহ্ দুনিয়াদারদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তিনি সেই মুরীদকে উপস্থিত করতে নির্দেশ দেয়ায় তাকে উপস্থিত করা হলো। সে মুরীদ তখন দরবেশী পোষাকে সজ্জিত ছিলো। হযরত জুন্নুনমিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তার দরবেশী পোষাক ছিনিয়ে নিয়ে অগ্নিতে নিক্ষেপ করতে নির্দেশ দিলেন এবং সেই অবাঞ্ছিত মুরীদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নিক্ষেপ করে বললেনআম্বিয়াআউলিয়া  আরিফদের পোষাক প্রত্যেক দিন অপবিত্র লোকদের মাঝে নিয়ে যেয়ে কলোষিত করার পরও কি করে আশা করো যে  বস্ত্র পরিধান করে ইলাহির মহিমান্বিতদের সম্মুখে আগমন করবেনা তা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। 

এরপর হযরত মালিক বিন দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর একটা ঘটনা বর্ণনা করলেন যেতিনি উপরে নীচে তিনটি করে পোষাক পরিধান করতেনযখন নামাজের সময় হতো তখন একেবারে উপরের  নীচের পোষাক খুলে নিতেন এবং মাঝেরটা পরে নামাজ পড়তেন। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলতেনউপরের পোষাক দুনিয়ার মলিনতায় মলিন। নীচের পোষাক শরীরের ময়লায় দূষিতকিন্তু মাঝের পোষাকটি উভয় প্রকার দোষমুক্ত এবংএজন্যই আমি মাঝের পোষাক দ্বারা নামাজ সমাধান করতে উত্তম মনে করি। এরপর হযরত শায়খুল ইসলামের চোখ অশ্রুতে ভরে উঠলো। তিনি বললেনপূর্ববর্তীগণ এরূপ সংগ্রামকরেই উচ্চ  শ্রেষ্ঠতর স্তরে পৌঁছেছে।  পর্যন্ত বলার পর পরবর্তী নামাজের সময় হয়ে গেলো। তিনি নামাজে নিমগ্ন হলেন। মজলিস বরখাস্ত (শেষহলো।
-আল্লহামদু লিল্লাহি আলা জালিক।

পরবর্তী পর্ব —
শবেমেরাজ ও তার ফজিলত 

No comments:

__