মুরীদের মাথার উপর কাঁচি চালাবার প্রক্রিয়া (রাহাতুল ক্বুলুব)



মুরীদের মাথার উপর কাঁচি চালাবার প্রক্রিয়া

📚রাহাতুল ক্বুলুব ✍🏻নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.) 
এরপর মুরীদের মাথার উপর কাঁচি চালাবার প্রক্রিয়া হচ্ছে প্রথমে সম্মুখের (পেশানীর) একটা চুল ধরে আল্লাহ্তায়ালাকে স্মরণ করে বলতে হবে, হে মালিক, হে বাদশাহের বাদশাহ, এ বান্দা তোমার দরবার হতে পালিয়ে গিয়েছিলো, এখন আবার ফিরে এসেছে । তার ইচ্ছা তোমার বন্দেগী (দাসত্ব) বন্দেগানদের (দাস বা পরিচারকদের) মতো করবে এবং তুমি ছাড়া অন্য কোন খেয়াল তার মনে প্রবেশ করলে তা বের করে দিবে । এরপর পেশানীর ডানদিকের একটা চুল ধরবে তারপর বাঁ দিকের একটা, সবশেষে মাঝেরটা সহ তিনটাকে একত্রে জড়িয়ে নিবে । কিছু সংখ্যক শায়েখ অবশ্য একটা চুল ধরার জন্য বলেছেন । 

বর্ণিত আছে যে , পূর্ববর্তী আরিফে কামেল হযরত খাজা হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন যে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু এরশাদ করেছেন কাঁচি মাথায় চালাতেই হবে তা যে প্রকারেই হোক আমরা হযরত আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)- এর নিয়মকেই প্রকৃত ও প্রকৃষ্ট মনে করছি, কেননা আহ্‌লে সোফ্‌ফ্ফাদের তিনিই প্রথম ও প্রধান খলিফা । এ সম্বন্ধে রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসে রয়েছে - “আনা মদিনাতুল ইল্‌ম ওয়া আলীউন বাবুহা ।”  অর্থাৎ আমি ইলমের শহর ও আলী তার দরজা ।
এরপর আমি (নিজাম উদ্দীন আউলিয়া) জিজ্ঞেস করলাম, কাঁচি চালনাটা কিরূপ এবং এ সুন্নত কখন থেকে শুরু হয়েছে ? 

উত্তরে তিনি বললেন, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস্ সালাম হতে এবং কারও কারও মতে হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম হতে । কেননা তিনি ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ্ আলাইহিস্ সালামকে শিক্ষা দিয়েছিলেন । 

এরপর এরশাদ করলেন, হযরত খাজা হাবীব আযমী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত খাজা হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সঙ্গে একত্র বসেছিলেন। এমন সময় একজন লোক এসে বললো আমি অমুক দরবেশের মুরীদ । হযরত খা’জা হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন এর নিকট হতে কিছু নির্দেশ চাওয়া দরকার । তিনি জিজ্ঞেস করলেন তোমার মুর্শেদ কি তোমায় কিছু তালকিন (শিক্ষা) দিয়েছেন ? 
সে উত্তরে বললো, “না, তবে মাথায় কাঁচি চালিয়েছেন।”  এ উত্তর শুনে চুপ হয়ে গেলেন এবং বললেন, সে পীর তাহলে -“সে পথভ্রষ্টকারী ও পথভ্রষ্ট।”  এ থেকে প্রমাণ হচ্ছে যে শায়খের উচিত মুরীদদের পরিচয়কারী হওয়া। 

No comments:

__