আহকামে শরিয়ত


আহ্‌কাম
-------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-------------------------
#আহ্‌কামে_শরিয়ত
ইসলামী শরীয়াতের বিধান মতে মানুষের কাজগুলো দু'ভাগে বিভক্তঃ
[ ১ ] মাসরু (শরিয়াত সম্মত)
[ ২ ] গাইর মাশরু (শরিয়াত পরিপন্থী)


মাসরু বা শরীয়াত সম্মত কার্যাবলী ৬ ভাগে বিভক্ত । যথাঃ 
(১) ফরজ,
(২) ওয়াজিব,
(৩) সুন্নাত,
(৪) মুস্তাহাব,
(৫) মুস্তাহ্‌সান,
(৬) মুবাহ্‌ ।


গাইরে মাশরু
গাইরে-মাশরু বা শরীয়াত পরিপন্থী কাজ গুলো দুইভাগে বিভক্তঃ

১) মাকরুহ
২) হারাম


-----------------------------
বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে 

(১) ফরজ, 
-------
https://www.facebook.com/groups/175477709627957/permalink/295880137587713/

(২) ওয়াজিব, 
------------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312229459277082/

(৩) সুন্নাত
---------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312614972571864/

(৪) মুস্তাহাব
-------------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312618495904845/

(৫) মুস্তাহ্‌সান
--------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312627769237251/

(৬) মুবাহ্‌ ।
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312634515903243/

(১) মাকরুহ
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/313915829108445/
(২) হারাম
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/313918325774862/



. ফরজ
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#ফরজ
ফরজ অর্থ অবশ্য পালনীয় । আল্লাহ, তায়ালার অলঙ্ঘনীয় আদেশ । যা দলিলে কাত্‌ঈ (অকাট্য দলীল দ্বারা প্রামানিত) । আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলমানের প্রতি তা অপরিহার্য কর্তব্য বলে ঘোষণা করেছেন । যার অস্বীকারকারী কাফির বলে গণ্য হবে । এর তরককারীর জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে । শরীয়াতের পরিভাষায় এ জাতীয় ব্যক্তিকে 'ফাসিক' বলা হয় । দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রামাযান মাসের রোযা, বাৎসরিক উদ্বৃত্ত নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদের যাকাত দান, সামর্থ হলে জীবনে একবার হজ্জ আদায় করা ফরজ । ফরজ দুই প্রকারঃ
#ফরজে_আইন
ফরজে আইন যা প্রত্যেকের উপর ফওজ । এ শ্রেণীর ফরজ কাজ এককভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে আদায় করতে হয়ে । যেমন নামায, রোযা ইত্যাদি ।
#ফরজে_কিফায়া
ফরজে কিফায়া যা সমাজের সকলের প্রতি এ কাজ ফরজ । তবে সমাজের কিছু লোক তা আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে । কিন্তু কেউ যদি আদায় না করে, তবে সমাজের সকলেই গুনাহগার হবে । যেমন- জিহাদ, জানাযার নামাজ ।
------------------------------


ওয়াজিব
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#ওয়াজিব
ওয়াজিবও ফরজের মত অবশ্য পালনীয় । তবে গুরুত্বের দিক থেকে ফরজের পরে ওয়াজিবের স্থান । বিনা কারনে তা পরিত্যাগ করলে ফাসিক হবে এবং কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধী বলে বিবেচিত হবে । ওজরবশতঃ ছুটিয়া গেলে পরে ক্বাযা করিতে হইবে । শরীয়াতের ওয়াজিব বিধানকে গুরুত্বহীন মনে করা সরাসরি গোমরাহি । তবে কোনরূপ তাবীলের আশ্রয় নিয়ে অথবা সন্দেহ মূলে ওয়াজিবকে ইনকার (অস্বীকার) করলে কাফির হবে না । যেমন বিতরের তিন রাক'আত নামায । নামাজের প্রত্যেক রাক'আতে সূরা ফাতিহা পড়া ।
-------------------------------


সুন্নাত

-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#সুন্নাত

যে সকল কাজ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বা তাঁহার আসহাবগণ করিয়াছেন তাহাকে 'সুন্নাত' বলে । হাদিস শরিফে বর্নিত আছে
তোমাদের প্রতি অবশ্যকর্তব্য আমার সুন্নাত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের অনুসরণ করা
সুন্নাত দুই প্রকারঃ
১) #সুন্নাতে_মুওয়াক্কাদাহ্‌
যে সকল কাজ রাসূল (সঃ) ও তাঁর আসহাবগণ সর্বদা আমল করিয়াছেন এবং বিনা ওজরে কোণ সময় ছাড়েন নাই উহাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ বলে; যেমন আযান, ইক্কামত, খতনা, নিকাহ্‌ ইত্যাদি । সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ আমলের দিক দিয়া ওয়াজিবেরই মত; অর্থাৎ যদি কেউ বিনা ওজরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ ত্যাগ করে অথবা তরক করার অভ্যাস করে তবে সে কঠিন গোনাহগার হইবে এবং হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর খাছ শাফায়াৎ থেকে বঞ্চিত হইবে । কিন্তু ওয়াজিব তরকের গোনাহ হইতে কম গোনাহ হইবে এবং কখনও ওজর বশতঃ ছুটিয়া গেলে ক্বাযা করিতে হইবে না । যেমন ফজরের ২ রাকাত সুন্নত নামাজ ।
২) #সুন্নাতে_গাইরে_মুওয়াক্কাদাহ্‌
যে সকল কাজ রাসূল (সঃ) এবং তাঁহার আসহাবগণ(রাঃ) করিয়াছেন তবে ওজর ছাড়াও কোন কোণ সময় তরক করিয়াছেন তাহাকে সুন্নাতে গাইরে-মুওয়াক্কাদাহ্‌ বলে । ইহাকে #সুন্নাতে_যায়েদা বা সুন্নাতে আদীয়াও বলে । ইহা পালন করিলে সওয়াব আছে কিন্তু না করিলে গোনাহ নাই ।
যেমন আসরের চার রাকাত সুন্নত নামাজ।
--------------------------------


মুস্তাহাব
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#মুস্তাহাব
যে কাজ রাসূল (সঃ) বা তাঁর আসহাবগণ করিয়াছেন কিন্তু হামেশা বা অধিকাংশ সময় করেন নাই। অন্যকে আমল করিতে উৎসাহ দিয়াছেন কিন্তু তাক্বিদ করেন নাই তাহাকে মুস্তাহাব বলে । মুস্তাহাবকে নফল বা মন্দুবও বলা হয় ।মুস্তাহাব এমন আমল যা পালন না করলে কোনো শাস্তি পেতে হবে না। কিন্তু পালন করা ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম।মুস্তাহাব কাজ করলে সওয়াব ও আল্লাহর দরবারে পুরস্কার আছে।মুস্তাহাব ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়।
----------------------------



মুস্তাহ্‌সান (নফল)

-----------------------------#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ-----------------------------
#মুস্তাহ্‌সান (#নফল)

যে সব কাজ উলামায়ে মুতাকাদ্দিমীন ও মুতাআখ্‌খিরীন (পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শরীয়াত বিশেষজ্ঞগণ) পবিত্র কুরআন, হাদীস ও সুন্নাতের আলোকে ভাল বলে গ্রহণ করেছেন । মুস্তাহ্‌সান পালনে সওয়াব আছে, তবে ছেড়ে দিলে কোন গুনাহ নেই।
--------------------

মুবাহ (বৈধ) 

-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#মুবাহ (#বৈধ) 

সব জিনিসের ব্যাপারেই মৌল নীতি হচ্ছে– তা #মুবাহ(বৈধ)
যে কাজ করাতে কোন সাওয়াব নেই আর না করাতে কোন গুনাহ নেই শরীয়াতের পরিভাষায় সেসব কাজকে মুবাহ্‌ বলা হয় । ইচ্ছা করলে তা করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা নাও করতে পারে । মোবাহ্‌ কাজ যথাঃ মাছ মাংস খাওয়া, পানাহার করা, কৃষিকর্ম করা, ব্যবসায় বাণিজ্য করা, দেশ ভ্রমণ করা, আল্লাহ্‌র সৃষ্টি দর্শন করা । মোবাহ্‌ কাজের সঙ্গে যদি ভাল নিয়ত ওভাল ফল সংযুক্ত করা হয়, তবে তাহা সওয়াবের কাজ হইয়া যায় আর যদি মন্দ ফল সংযুক্ত হয় তাহলে তবে তাহা গোনাহের কাজ হইয়া যায় । যথা- যদি কেহ এলেম হাসিল করিবার জন্য, ইসলামের খেদমত করিবার জন্য, জেহাদ ও তবলীগ করিবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য খাইয়া, ব্যায়াম করিয়া শরীর মোটাতাজা ও স্বাস্থ্য ভাল করে, তবে সে ছওয়াব পাইবে । আর যদি কেহ পরস্ত্রী দর্শন করিবার জন্য ভ্রমণ করে বা নাজায়েজ খেলায় যোগদান করে, তবে তাহাতে গোনাহ্‌ হইবে ।
--------------------------


মাকরুহ
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#মাকরুহ
মাকরুহ অর্থ খারাপ বা নিন্দনীয়।
মাকরুহ এমন আমল যা পালন করার তুলনায় না করা উত্তম। অর্থাৎ যে কাজ করা জায়েজ কিন্তু না করা উত্তম। মাকরুহ কাজ করলে শাস্তি পেতে হবে না, কিন্তু এ ধরনের কাজ এড়িয়ে যেতে বলেছে ইসলাম।যেমন উদাহরন স্বরুপ বলতে পারি,আসরের ফরজ নামাজের পরে সুর্য ডুবা পর্যন্ত নামাজ (সিজদা) মাকরুহ্ (অঅনুমোদিত)।মাকরুহ্ হারামও নয় আবার হালালও নয় । তবে হালালের সাথে সংঘর্ষিত । এড়িয়ে চলাই উত্তম ।
ইসলামে নিষিদ্ধ ব্যাপারগুলো তিন পর্যায়ের : হারাম, মাকরুহ তাহরীমী,ও মাকরুহ তানজীহী।
মাকরুহ অর্থ খারাপ বা নিন্দনীয়। তাহরীমী অর্থ হারামকারী অর্থাৎ যে মাকরুহ হারামের কাছাকাছি।
যে সকল কাজ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ নেই, তবে কোন কোন হাদীসে এর প্রমাণ পাওয়া যায় তাকে মাকরুহ তাহরিমী বলে।
যে সকল কাজ শরীয়তের দৃষ্টিতে ঘৃণাজনক কিন্তু এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষ কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বরং পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাকে মাকরুহ তানজীহী বলে।
আদর্শ মুসলমানগণ মাকরুহ তানজীহীও পরিত্যাগ করেন।
কিছু কিছু মাকরুহ্ এর কারনে ফরজ ও মাকরুহ্ হয়ে যায় । য়েমন :-
সিয়াম পালন অবস্থায় যেসব কাজ করা অপছন্দনীয়। এ জাতীয় কাজ সিয়াম ভঙ্গ করে না কিন্তু এসব চর্চা করা কখনো কখনো সিয়াম বিনষ্টের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
উদাহরন স্বরুপ বলতে পারি , রোজা অবস্থায় অযুর সময় গড়গড়া করে কুলি করা, জোড় দিয়ে নাকে পানি টানা। এতে গলা বা নাক দিয়ে ভিতরে পানি প্রবেশ করার সম্ভাবনা থেকে যায়।
----------------------------
আল্লাহ্ আমাদেরকে মাকরুহ্ থেকে হেফাজত করুন । আমিন ।

হারাম
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#হারাম একটি আরবি ইসলামি পরিভাষা। এ দ্বারা নিষিদ্ধ কাজ বোঝানো হয়। মন্দ কাজসমূহের মধ্যে হারামকে সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদি কোনো কাজ হারামের মধ্যে পড়ে তবে তা যেকোনো ভালো উদ্দেশ্যেই করা যায় না। তবে ব্যক্তি নিরূপায় হয়ে হারাম কাজ করলে তা পাপ হিসেবে গণ্য হয় না। হারাম বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কিছু হারাম বিষয় ইজতিহাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এসকল ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাজহাবে নিয়মের পার্থক্য হতে পারে।
#হারাম কাজ সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। কতিপয় হারাম কাজের জন্য শরিয়া কর্তৃক শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া ইসলাম অনুযায়ী হারামে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য মৃত্যু পরবর্তী সময়ে শাস্তির কথা বলা আছে। হারাম কাজের মধ্যে রয়েছে মানুষ হত্যা, চুরি-ডাকাতি, মদপান, সুদের লেনদেন, ঘুষ আদানপ্রদান, ধর্ষণ, ব্যভিচার, মৃত পশুপাখির মাংস খাওয়া প্রভৃতি।
#হারাম ফরযের ও হালালের বিপরীত । যদি কেহ হারাম কাজ অস্বীকার করে অর্থাৎ যদি কেহ হারাম কাজকে হালাল এবং জায়েজ মনে করে, তবে সে কাফের হইবে । আর যদি বিনা ওজরে হারাম কাজ করে কিন্তু অস্বীকার না করে অর্থাৎ হারামকে হালাল মনে না করে, তবে সে কাফির হইবে না, ফাসেক হইবে, শাস্তির উপযুক্ত হইবে । হারামকারী ইসলামে গুনাহ্গার বলে বিবেচিত।
------------------------------

ইসলামের আলোকে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা



গত শতাব্দীতে আমেরিকায় শিকাগো শহরে অধিকার আদায়ের একটি মিছিলে গুলি করে হত্য করা হয় কয়েকজন নিরীহ শ্রমিককে । পরবর্তীতে এই ঘঠনাকে কেন্দ্র করে দিনটিকে শ্রমিক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। বর্তমানে বিশ্ব যখন একটি ছোট্ট গ্রামে (গ্লোবাল ভিলেজ) পরিণত হয়েছে। একটির সঙ্গে আরেকটির সীমান্ত লাগানো। এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের স্বার্থ জড়িত। তখন শ্রম দিবস পালিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। ইংরেজি বর্ষের পঞ্চম মাস মে'র প্রথম দিনটি পালিত হয় আন্তর্জাতিক অ্রমিক দিবশ হিসাবে। এমতাবস্থায় আমাদের কর্তব্য আন্তর্জাতিক সন্মান, শ্রমিক ও মানবাধিকার প্রভৃতি দিবশ উপলক্ষে ইসলামের শ্রমিকের অধিকার কিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে তা সবার সামনে উপস্থাপন করা। কারণ ইসলামই সেই ধর্ম প্রথম যে মানবাধিকারের বিধান প্রবর্তন করেছে। যেমন ইসলামই শ্রম ইতিহাসে সর্বপ্রথম শ্রমিকের প্রতি যথার্থ দৃষ্টি দিয়েছে। তাকে দিয়েছে সন্মান ও মর্যাদা আর শ্রমের স্বীকৃতি। পক্ষান্তরে কোন কোন সনাতন ধর্মে শ্রমের অর্থ ছিল দাসত্ব বশ্যতা । আবার কোন ধর্মে এর অর্থ ছিল লাঞ্চনা ও অবমাননা ।ইসলাম সমাজে আর দশজন সদস্যের মত নাগরিক হিসাবে তাদের প্রকৃতিক অধিকারগুলোর স্বীকৃতি দিয়েছে। তেমনি শ্রমিক হিসাবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে অনেক মূলনীতি ও বিধিও প্রবর্তন করেছে। যাতে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা হয়। তাসের ইহ ও পরকালীন জীবনে তাদের ও তাদের পরিবারের সন্মানিত জীবন লাভ হয়। এভাবে ইসলাম শ্রমগ্রহীতার প্রতি আহবান জানিয়েছে শ্রমিকের সঙ্গে মানবিক ও সন্মান জনক আচরণ করতে। তার প্রতি মমতা দেখাতে । তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাকে বারণ করেছে তার সাধ্যাতীত কাজের নির্দেশ প্রদান থেকে। এমনকি নানা অধিকার সুযোগ নিশ্চিত করেছে ইসলাম শ্রমিকের জন্য। শ্রমগ্রহীতার কাধে যা সব বাধ্যবাদকতা আরোপ করা হয়েছে তার মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ভ হল শ্রমের মুল্য বা মজুরী । সেহেতু ইসলাম এর প্রতি অত্যদিক গুরুত্ব আরোপ করেছে।আমরা দেখেছি ইসলাম কিভাবে কাজ বা শ্রমকে ইবাদত হিসাবে গন্য করে। কীভাবে একে সকল ইবাদতের ওপর স্থান দেয়।আর শ্রমের এই পবিত্র দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ইসলাম শ্রমিকের মজুরী বা পারিশ্রমিককেও পবিত্র ঘোষনা করে।উদ্বুদ্ধ করে যাতে সকল শ্রমিককে তার শ্রমের মুল্য পরিশোধ করা হয়। পবিত্র কুরআনে অনেক যায়গায় 'আযর' বা বিনিময় শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে। আবার অসংখ্য হাদিসেও শ্রমের বিনিময়ের প্রতি বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শ্রমিকের অধিকার আদায়ে রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর ঘোষণা
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, শ্রমিকের গায়ের গাম শুকিয়ে যাওয়ার আগে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও 
(ইবনে মাজাহ)
রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই আল্লাহ তায়ালা যে ভাইকে তোমার অধীন করে দিয়েছেন তাকে তা- খেতে দাও, যা তুমি নিজে খাও, তাকে তা- পরিধান করতে দাও, যা তুমি নিজে পরিধান কর।” (বুখারী)
কিয়ামতের দিন শ্রমিকের পক্ষে মহান আল্লাহ দাঁড়াবেন 
'হযরত আবু হুরাইরা রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সা বলেছেন যে, মহান আল্লাহ ফরমান জারি করেছেন যে কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেব
. যে ব্যক্তি আমার নামে শপথ করে, প্রতিশ্রুতি দেয় অতঃপর ওয়াদা ভঙ্গ করে 
. যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন লোক কে বিক্রি করে মূল্য খেয়ে ফেলল (তাকে কৃতদাস বাণিয়ে দিল) এবং 
. যে ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ আদায় করে নিল কিন্তু শ্রমের পারিশ্রমিক প্রদান করল না 
(বুখারী-মুসলিম)
ইসলামের ইতিহাস পড়লে আমরা দেখি শ্রমের দাতা ও গ্রহিতার মধ্যে বৈষম্য ইসলামে ছিলনা এবং নেই যেমন নিচের কিছু ঘঠনা পড়ে অনুমান করতে পারেন। নবী-রাসূলগণ শ্রমিকদের কত মর্যাদা দিয়েছেন ইসলামের সব নবী ছাগল চরিয়ে নিজে শ্রমিক হয়ে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন
হযরত আবু হুরাইরা (রঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী (সঃ)  থেকে বর্ণনা করেছেন যে রাসূল (সঃ) বলেছেন আল্লাহ তায়ালা যথ নবী পাঠিয়েছেন সকলে ছাগল চরায়েছেন সাহাবীগণ বললেন হে আল্লাহর রাসূল আপনিও কি চরায়েছেন ? তখন রাসূল সা বললেন হ্যাঁ! আমি কয়েক কেরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরায়েছি (শ্রম খেটেছি) 
তাহলে বুঝা যায় মুসলিম কোন প্রকারেই শ্রমিককে হেয় করতে পারেনা।
মালিক হযরত শোয়াইব (আঃ) তাঁর মেয়ের বিয়ে দিয়ে শ্রমিক নবী মূসাকে (আঃ) জামাই বানিয়েছেন
রসুল (সঃ) শ্রমিক যায়েদ (রাঃ)-এর কাছে আপন ফুফাতো বোন জয়নবের বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি (সঃ) যায়েদকে (রাঃ) মুতারের যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন
ইসলামের প্রথম মোয়াজ্জিন বানানো হয়েছিল শ্রমিক হযরত বিলালকে (রাঃ)
মক্কা বিজয় করে কাবা ঘরে প্রথম প্রবেশের সময় মহানবী (সা.) শ্রমিক বেলাল (রাঃ) শ্রমিক খাব্বাবকে (রাঃ ) সাথে রেখে ছিলেন নবীজী কখনো নিজ খাদেম আনাসকে (রাঃ) ধমক দেননি এবং কখনো কোনো প্রকার কটুবাক্য কৈফিয়ত তলব করেননি
আরো অসংখ্য হাদিসে আমরা দেখতে পাই শ্রমিকের মর্যাদা কত উর্ধে । তাই পহেলা মে তথাকথিত শ্রমিক দিবস পালন নয় । ইসলাম ও শ্রমিকের অধিকার পর্যালোচনার দিবস বলেই আখ্যেয়িত করা যুক্তিযুক্ত।

শবে বরাতের আমল

পবিত্র শবে বরাতের আমল

#পবিত্র_শবে_বরাতের_আমল
শবে বরাত হচ্ছে মুক্তি বা ভাগ্য অথবা নাজাতের রাত। অর্থাৎ বরাতের রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করে ও পরবর্তী দিনে রোযা রেখে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের সন্তুষ্টি অর্জন করাই মূল উদ্দেশ্য। শবে বরাতে কোন্ কোন্ ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে তা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। তবে ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে। যেমন হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে- “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রি অর্থাৎ বরাতের রাত্রি (চৌদ্দ তারিখ দিনগত) উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, “কোন ক্ষমা প্র্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো।” “কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করবো।” “কোন মুছিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিবো।” এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)
হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে - “হযরত আবু মূসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আল্লাহর হাবীব হুযূর পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে ঘোষণা করেন যে, উনার সমস্ত মাখলূকাতকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। শুধু মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষকারী ব্যতীত। (ইবনে মাজাহ, আহমদ, মিশকাত)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহের সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু হলো, রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে এবং দিনে রোযা রাখতে হবে। যার মাধ্যমে আল্লাহ পাক বান্দাহকে ক্ষমা করে স্বীয় সন্তুষ্টি দান করবেন।
বরাতের রাত্রিতে যেসব ইবাদত করতে হবে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো-
বরাতের নামায: শবে বরাতে ৪, ৬, ৮, ১০, ১২ রাকায়াত নফল নামায পড়া যেতে পারে।
ছলাতুত তাসবীহ নামায: অতঃপর ছলাতুত তাসবীহ-এর নামায পড়বে, যার দ্বারা মানুষের সমস্ত গুণাহখতা ক্ষমা হয়। (নিচে লিংক দেয়া হল)
তাহাজ্জুদ নামায:
অতঃপর তাহাজ্জুদের নামায পড়বে, যা দ্বারা আল্লাহ পাক-উনার নৈকট্য হাছিল হয়।
(নিচে লিংক দেয়া হল)
কুরআন শরীফ তিলাওয়াত: কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করবে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা-উনার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। কেননা নফল ইবাদতের মধ্যে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত হচ্ছে সর্বোত্তম আমল।
মীলাদ শরীফ ও দুরূদ শরীফ পাঠ: মীলাদ শরীফ ও দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, যার দ্বারা আল্লাহ পাক-উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন হুযূর পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
যিকির-আযকার: যিকির-আযকার করবে, যার দ্বারা দিল ইছলাহ হয়।
কবর যিয়ারত: কবরস্থান যিয়ারত করবে, যার দ্বারা সুন্নত আদায় হয়। তবে কবর বা মাযার শরীফ যিয়ারত করতে গিয়ে সারারাত্র ব্যয় করে দেয়া জায়িয হবেনা। সুন্নত আদায়ের লক্ষ্যে নিকটবর্তী কোন কবরস্থান যিয়ারত করে চলে আসবে।
দান-ছদকা: গরীব-মিসকীনকে দান-ছদকা করবে ও লোকজনদের খাদ্য খাওয়াবে, যার দ্বারা হাবীবুল্লাহ হওয়া যায়।
দোয়া-ইস্তিগফার: আল্লাহ পাক-উনার নিকট দোয়া করবে, যার কারণে আল্লাহ পাক খুশি হবেন ও উনার নিয়ামত লাভ হবে। আর সর্বশেষ খালিছ ইস্তিগফার ও তওবা করবে, যার মাধ্যমে বান্দাহর সমস্ত গুণাহ-খতা মাফ হয়ে আল্লাহ পাক-উনার খালিছ সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। অর্থাৎ শ’বে বরাতের বারাকাত, ফুয়ূজাত, নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত ইত্যাদি হাছিল করা যায়।
স্মরণীয় যে, অনেক স্থানে দেখা যায় যে, লোকজন ছুবহে ছাদিকের পর আখিরী মুনাজাত করে থাকে। মূলতঃ মুনাজাত যে কোন সময়েই করা যায়। তবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল করার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা ছুবহেছাদিকের পূর্ব পর্যন্ত। এরপর বরাতের রাত অবশিষ্ট থাকেনা। কেননা, হাদীছ শরীফে স্পষ্টই বলা হয়েছে যে- “ফজর বা ছুবহে ছাদিক পর্যন্ত আল্লাহ পাক তিনি দোয়া কবুল করেন।” অতএব, সকলের উচিৎ হবে মূল বা আখিরী মুনাজাত ছুবহে ছাদিকের পূর্বেই করা।
[দলীলসমূহ – (১) তাফসীরে কুরতুবী, (২) মাযহারী, (৩) রুহুল বয়ান, (৪) রুহুল মায়ানী, (৫) খাযিন, (৬) বাগবী, (৭) তিরমিযী, (৮) ইবনে মাজাহ, (৯) আহমদ, (১০) রযীন, (১১) মিশকাত, (১২) মিরকাত, (১৩) আশয়াতুল লুময়াত, (১৪) লুময়াত, (১৫) ত্বীবী, (১৬) ত্বালীক, (১৭) মুযাহিরে হক্ব ইত্যাদি।]
শবে বরাতে ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে সারারাত্র ওয়াজ মাহফিল করা
শবে বরাত হচ্ছে ইসলামের বিশেষ রাত্রিসমূহের মধ্যে একটি রাত্রি। যা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত্রিতে হয়ে থাকে। শবে বরাত-এর অর্থ হচ্ছে মুক্তির রাত্র বা নাজাতের রাত্র। এ রাতে ওয়াজ-নছীহত করার আদেশও নেই। আবার নিষেধও করা হয়নি। তবে এ রাতে দোয়া কবুল করার ও ইবাদত বন্দেগী করার কথাই হাদীছ শরীফে ব্যক্ত হয়েছে। যেমন আখিরী রসূল, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন - “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে।” (মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ, আমালুল ইয়াত্তমি ওয়াল লাইলাতি)
হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে - “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রি অর্থাৎ বরাতের রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, “কোন ক্ষমা প্র্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো।” “কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করবো।” “কোন মুছিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিবো।” এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় ইমাম-মুজতাহিদগণ বলেন যে - “বরাতের রাত্র হলো ক্ষমা ও দয়ার রাত্র, তওবা ও লজ্জিত হওয়ার রাত্র,
যিকির ও নামাযের রাত্র, ছদক্বা ও খয়রাতের রাত্র, দোয়া ও যিয়ারতের রাত্র, দুরূদ শরীফ তথা ছলাত-সালাম পাঠ করার রাত্র এবং কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের রাত্র।”
কাজেই, বরাতের রাতে যেহেতু ওয়াজ নছীহতের আদেশও করা হয়নি এবং নিষেধও করা হয়নি, তাই মুছল্লীদেরকে বরাতের রাতের ফযীলত ও ইবাদত-বন্দেগীর নিয়ম-কানুন, তর্জ-তরীক্বা বাতিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ওয়াজ-নছীহত করা অবশ্যই জায়িয ও প্রয়োজন। তাই বলে, সারা রাত্র ওয়াজ করে মুছল্লীদেরকে নামায, তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, দোয়া মুনাজাত ইত্যাদি ইবাদত বন্দেগী হতে মাহরূম করা কখনোই শরীয়ত সম্মত নয়। বরং হাদীছ শরীফের খিলাফ। শুধু তাই নয় এতে হক্কুল ইবাদ নষ্ট করা হয়। আর হক্কুল ইবাদ নষ্ট করা কবীরা গুণাহর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ওয়াজ বৎসরের যে কোন দিনেই করা যায়। কিন্তু বরাতের রাত্র বৎসরে মাত্র একবারই পাওয়া যায়। যদি কেউ পরবর্তী বৎসর হায়াতে থাকে তবেই সে বরাতের রাত্র পাবে। কাজেই এই মহামূল্যবান রাত্রকে শুধুমাত্র ওয়াজ করে ও শুনে অতিবাহিত করে দেয়া সুন্নতের খিলাফ।
আর সুন্নতের খিলাফ কাজ করে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের রেজামন্দী বা সন্তুষ্টি কস্মিনকালেও হাছিল করা সম্ভব নয়। মূলকথা হলো, বরাতের রাত্র মূলতঃ ইবাদত-বন্দেগীর রাত্র, সারা রাত্র ওয়াজ করে ইবাদত বন্দেগীতে বিঘ্ন ঘটানো এবং মানুষদেরকে ইবাদত থেকে মাহরূম করা সম্পূর্ণরূপেই শরীয়তের খিলাফ। এ ধরণের কাজ থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্যেই দায়িত্ব ও কর্তব্য।
[দলীলসমূহ] (১) আহকামুল কুরআন জাস্সাস, (২) কুরতুবী, (৩) রুহুল মাআনী, (৪) রুহুল বয়ান, (৫) ইহ্ইয়াউ উলূমিদ্দীন, (৬) কিমিয়ায়ে সা’য়াদাত, (৭) ইবনে মাজাহ, (৮) মিশকাত, (৯) মাছাবাতা বিসসুন্নাহ, (১০) মিরকাত, (১১) আশয়াতুল লুময়াত, (১২) লুময়াত, (১৩) শরহুত্ ত্বীবী, (১৪) তালিকুছ ছবীহ, (১৫) মুযাহিরে হক্ব, (১৬) আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাতি ইত্যাদি]
শবে বরাতে হালুয়া-রুটি বা গোশত রুটি পাকানো
উল্লেখ্য, শবে বরাতে হালুয়া-রুটি অথবা অন্য কোন বিশেষ খাবার তৈরী করা শরীয়তে নাজায়িয নয়। শবে বরাত উপলক্ষে বিশেষ করে আমাদের দেশ ও তার আশ-পাশের দেশসমূহে যে রুটি-হালুয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে তার পিছনে ইতিহাস রয়েছে। ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ববর্তী যামানায় যখন বর্তমানের মতো বাজার, বন্দর, হোটেল-রেঁস্তরা ইত্যাদি সর্বত্র ছিলোনা তখন মানুষ সাধারণতঃ সরাইখানা, লঙ্গরখানা, মুসাফিরখানা ইত্যাদিতে ছফর অবস্থায় প্রয়োজনে রাত্রিযাপন করতেন। অর্থাৎ মুসাফিরগণ তাদের সফর অবস্থায় চলার পথে আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত জনের ঘর-বাড়ি না পেলে সাধারণতঃ সরাইখানা, মুসাফিরখানা ও লঙ্গরখানায় রাত্রিযাপন করতেন। আর এ সমস্ত মুসাফিরখানা, লঙ্গরখানা ও সরাইখানার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত থাকতেন তারাই মুসাফিরদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন।
বিশেষ করে মুসাফিরগণ শবে বরাতে যখন উল্লিখিত স্থানসমূহে রাত্রি যাপন করতেন তখন তাদের মধ্যে অনেকেই রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করতেন ও দিনে রোযা রাখতেন। যার কারণে উল্লিখিত স্থানসমূহের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ খাবারের ব্যাবস্থা করতেন যাতে মুসাফিরদের রাত্রে ইবাদত-বন্দেগী করতে ও দিনে রোযা রাখতে অসুবিধা না হয়। আর যেহেতু হালুয়া-রুটি ও গোশ্ত-রুটি খাওয়া সুন্নত সেহেতু তারা হালুয়া-রুটি বা গোশ্ত-রুটির ব্যবস্থা করতেন। এছাড়াও আরবীয় এলাকার লোকদের প্রধান খাদ্য রুটি-হালুয়া বা রুটি-গোশ্ত। তারা ভাত, মাছ, ইত্যাদি খেতে অভ্যস্ত নয়। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে শবে বরাত উপলক্ষে হালুয়া-রুটির প্রচলন আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, কোন আমলের ক্ষেত্রেই বদ রছম বা বদ প্রথার অনুসরণ করা জায়িয নেই।
এখন মাসয়ালা হচ্ছে- কেউ যদি শবে বরাত উপলক্ষে রছম-রেওয়াজ না করে বা নিজের ইবাদত-বন্দেগীর ব্যাঘাত না ঘটিয়ে উক্ত হালুয়া-রুটির ব্যবস্থা করে তাহলে তা অবশ্যই জায়িয। শুধু জায়িয নয় বরং কেউ যদি তার নিজের ইবাদত-বন্দেগী ঠিক রেখে অন্যান্যদের জন্য যারা রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করবে ও দিনে রোযা রাখবে তাদের ইবাদত-বন্দেগী ও রোযা পালনের সুবিধার্থে হালুয়া-রুটি বা গোশ্ত-রুটি অথবা আমাদের দেশে প্রচলিত খাদ্যসমূহের কোন প্রকারের খাদ্যের ব্যবস্থা করে তা অবশ্যই অশেষ ফযীলত ও নেকীর কারণ হবে।
হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে - “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হে লোক সকল! তোমরা সালামের প্রচলন করো, মানুষকে খাদ্য খাওয়াও, আত্মীয়তার সর্ম্পক রক্ষা করো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়ো তাহলে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
*****************
সংকলন - কিতাবুল ইলম
-----------------
ছলাতুত তাসবীহ নামায:-
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/218762705290425/
-------------
ইস্তিগফার ও তওবা লিংক :-
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/218824218617607/
------------------------
তাহাজ্জুদ নামায: লিংক
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/218858321947530/

দুটি ভারী জিনিষ


হাদিসে সাকালাইন

#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ

#হাদিসে_সাকালাইন  বা
#দুটি_ভারী_জিনিষ

আল্লাহ্ রব্বুলআলামিন বলেন,
"এবং সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিও না অথবা সত্যকে গোপন কর না যখন তোমরা জান – “ ।
সুরা – বাকারা / ৪২ ।
আল্লাহ্ তাদেরকে সংশোদনের রাস্তা খুলে দিয়ে বলেন ,
তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু।
সুরা – বাকারা / ১৬০ ।

এ প্রসঙ্গে একটি হাদিসের কথা উল্লেখ করতে চাই,যা হাদিসে ( দুটি ভারী জিনিষ ) সাকালাইন নামে পরিচিত।
অতীব দুঃখের বিষয় হল যে , অনেক গুলো সনদে উল্লেখ থাকা সত্বেও বিশুদ্ব সহীহ এই হাদিসটি নিয়ে আলোচনা খুবই কম হয় ! যারা জানা থাকা সত্বেও রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের এই বিশেষ হাদীসটি গোপন করে অথবা প্রচার করতে কৃপনতা করে তারা কিভাবে কাল হাসরের ময়দানে রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাফায়াত আশা করতে পারে ? অথচ রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাফায়াত ও আল্লাহর করুণা ছারা কেহই জান্নাতে যেতে পারবেনা। বিশুদ্ব হাদিসের জন্য অনেক সনদ জরুরী নয়, একটি নির্ভরযোগ্য সনদই যতেষ্ট। তাই আমি একটি মাত্র উল্লেখ করলাম।যদিও এই হাদীসের বিভিন্ন সনদ আছে।
হাদীসটি হচ্ছে এই, রসুলআল্লাহ্ সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
" হে মানবসকল , নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে অতীব গুরুত্বপূর্ন দুটি ভারী জিনিষ (সাকালাইন) রেখে যাচ্ছি , যদি এই দুইটি আঁকড়ে ধরে থাক তাহলে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না ।
প্রথমটি হচ্ছে , পবিত্র কোরআন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে , আমার ইতরাত , আহলে বাইত (রক্তজ বংশধর) । নিশ্চয়ই এই দুইটি জিনিষ হাউজে কাওসারে আমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত কখনই পরস্পর থেকে বিছিন্ন হবে না । তোমরা লক্ষ্য রাখিও এদুয়ের ব্যাপারে তোমরা কি রকম ব্যাবহার করছ"।
( তিরমিজি ৩৭৮৬, ৩৭৮৭) (বিদায়া ওয়া নিহায়া) আরো অনেক সহীহ্ সনদে আছে।
পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি পাওয়ার সনদ হচ্ছে , মহানবী (সাঃ) এর রক্তজ বংশধর তথা পুতঃপবিত্র আহলে বাইতের অনুসরন ও অনুগত্য করা ।
আল্লাহ বলেন,
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।
[Al-Fath, Ayah 13]
-------------------
ভিডিও লিংক
https://www.facebook.com/mohammed.kaisar.50/videos/2197100710363226/

৬ই রজব হযরত খাজা গরীব নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী আজমীরী (রহঃ)-এর ওফাত দিবশ

৬ই রজব হযরত খাজা গরীব নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী আজমীরী (রহঃ)-এর ওফাত দিবশ
--------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
==================
(#_হযরত_খাজা_গরীব_নেওয়াজ_মঈনুদ্দিন_চিশতী_আজমীরী_রহঃ)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রচারিত ইসলামকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন সূফী সাধকরা। তারা নিজেদের জীবনকে সংকটাপন্ন করে সুদূরে পাড়ি জমিয়েছেন এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন যথাযথভাবে। আল্লাহর ইচ্ছাই তাদের ইচ্ছায় পরিণত হয়েছে। তেমনি এক মহান সাধক হলেন হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ)।
তিনি ধর্মাকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি তার সাধনার মাধ্যমে এই ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আল্লাহ ও রাসুলের ধর্মকে। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ )-এর প্রতিষ্ঠিত তরিকাকে বলা হয় চিশতীয়া তরিকা। চিশতীয়া তরিকার আদি মুর্শিদ হলেন হযরত মুহম্মদ (দঃ)।
রাসুল (দঃ)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা হযরত আলী (কঃ) হয়ে হাসান-আল-বসরীর মাধ্যমে অধীনস্ত সিলসিলায় বয়ে এনেছে। চিশতীয়া তরিকার চিশতী উপাধি প্রথম শুরু হয় হযরত খাজা আবু ইসহাক শামী চিশতী থেকে। তিনি সিরিয়ার অধিবাসী ছিলেন।
তিনি তাঁর মুর্শিদের আদেশে আফগানিস্তানের চিশতী নামক স্থানে বসতি স্থাপন করেন। এখান থেকেই তিনি তাসাউফ ও সিলসিলার প্রচার-প্রসার শুরু করেন। চিশতীয়া উপাধি এখান থেকেই শুরু হয়। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এই তরিকায় সূত্রবদ্ধ হয়ে তরিকার দায়িত্ব পালনের ভার নেন। তাই তিনি এই তরিকার ইমাম ও কুতুব। তিনি ১১৮৫ খ্রিঃ/৫৮১ হিঃ সালে ভারতবর্ষে আগমন করে ইসলামের তওহিদ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রচার করেন। চিশতিয়া তরিকার ইমাম ও কুতুব
হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ) ১১৪২ খ্রিঃ /৫৩৬ হিঃ সালে ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী জেলার সানজারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন সঞ্জরি (রহঃ) এবং মাতার নাম সৈয়্যেদা উম্মেওয়ারা বিবি (রহঃ)।
তিনি পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয়দিক থেকেই ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের বংশধর। খাজাবাবা খাজা উসমান হারুনীর খেদমতে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘসময় তিনি তার মুর্শিদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন।
 মুর্শিদের সান্নিধ্যে তিনি অনেক স্থান ভ্রমণ করেন এবং অনেক গুণী সাধক কামেলদের সান্নিধ্য লাভ করে মারেফতের তত্ত্ব সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞানলাভ করেন।
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী  (রহঃ) তাঁর মুর্শিদ কেবলার সঙ্গে হজব্রত পালন শেষে মদিনায় গমন করেন। মদিনায় স্বীয় মুর্শিদ হযরত খাজা ওসমান হারুনী তাঁকে রাসুলের হাতে সঁপে দেন। নবীজী (সঃ)খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ)-কে হিন্দুস্থানে গিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য নির্দেশ দেন। খাজা উসমান হারুনী (রহঃ) তাঁর প্রিয় শিষ্যকে সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশে মক্কায় ফিরে আসেন। মক্কায় তরিকতপন্থীদের ইমাম, হাকিকত বিশারদ, আউলিয়াকুল করা হয়। পরে ওহাবি আন্দোলনে তাঁর মাজারসহ সকল মাজার নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। মুর্শিদের ওফাতের পর খাজাবাবা দারুণ ব্যথিত হৃদয় নিয়ে হিন্দুস্থানের পথে রওনা হন। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী  (রহঃ) হুজুর বেরীর (রহঃ) দরজায় দুছত্র ফারসি কবিতা লিখেছিলেন যা আজো শ্রদ্ধার সঙ্গে সকলে পড়ে থাকেন। কবিতাটি হলো ‘গঞ্জে বখশ জগতের প্রেরণা ও খোদার নূরে। (তিনি অসামর্থ্যদের পীরে কামেল আর কামেলদের পথপ্রর্দশক।’) লাহোর ত্যাগ করে তিনি দিল্লি ও পরে রাজপুত শক্তির কেন্দ্রবিন্দু আজমিরে আস্তানা করেন। খাজা বাবার অপার মহিমায়, মানব প্রেম ও চারিত্রিক মাধুর্যে মোহিত হয়ে হিন্দু প্রভাবশালীদের প্রবল বাধা বিপত্তির মধ্যেও দলে দলে লোক ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে থাকে। এতে হিন্দু রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) কে আজমির ত্যাগের নির্দেশ দেন। মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ ঐ সময় বলেছিলেন ‘আমি পৃর্থিরাজকে জীবিত বন্দী করে শিহাবুদ্দীন ঘোরীর হাতে তুলে দিলাম।’ তাঁর এই ভবিষদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

এভাবে ভারতবর্ষে মুসলমান রাজত্ব কায়েম হয়। ভারতবষের্র দিল্লি ও আজমির মুসলিম শাসনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সূফী সাধক, দরবেশ ফকিররা ভারতবর্ষে এসে ইসলাম প্রচার করেন। এঁদের মধ্যে প্রায় সবাই মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর দোয়া ও অনুমতি নিয়ে দূর-দূরান্তের বিশেষ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন এবং বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করে জীবনপাত করেছেন। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ) এক মহান মুবান্নিগ। যাঁর প্রচেষ্টার ফসল হলো ভারতবর্ষে ইসলামের সূর্যের উদয়। এবং উদয়ের ফলান্তে এদেশের মানুষ ইসলামের শান্তি লাভ করে। শরিয়ত-মারেফতের আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে সত্যিকারের পথ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ প্রাপ্তি হয়। চিশতীয়া তরিকার উত্থান বহুপূর্বে হলেও ভারতবর্ষে মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এই তরিকায় দিয়েছেন এক নতুন পরিচিতি। তিনি তরিকতের সাধনায় মানুষকে দিয়েছেন প্রকৃত মুসলমান হওয়ার শিক্ষা। খোদার পথের সাধনায় প্রথমে মানুষের ৩টি বিষয় রপ্ত করতে হবে ‘মানব প্রেম, সত্যিকারের মানবতা, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, অন্তর্ধ্যানে স্মরণে রাখা।’ এই বিষয়ে সর্বদাই নিজেকে নিয়োজিত রেখে তরিকার সাধনা করতে হবে। হযরত মুহম্মদ (দঃ) থেকে হযরত আলী এবং হযরত আলী থেকে হাসান বসরী এই তালিম লাভ করেন। সিনা -ব-সিনায় চলে আসা এই তালিম হযরত ওসমান হারুনীও লাভ করেন। এই তালিমগুলো লিপিবদ্ধ ছিল না। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিপিবদ্ধ করেন।
হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) ৬৩৩ হিজরীর ৫ রজব দিবাগত রাত অর্থাৎ ৬ রজব সুবহে সাদেকের সময় ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। গরীবে নেওয়াজের বড় সাহেবজাদা হযরত খাজা ফখরুদ্দীন চিশতী (রহঃ) তার নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার খাকী (রহঃ) কে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পন করে সিলসিলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন।
***********************
মহান আল্লাহ হেদায়াতপ্রাপ্ত বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার জন্য দোয়া করতে নির্দেশ দিয়েছেন। :-

অনুবাদ- আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম] দেখাও। তোমার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ।{সূরা ফাতিহা-৬,৭}

আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন –

অনুবাদ-যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ।{সূরা নিসা-৬৯}

আর যারা ওলি (বন্ধু) মানে আল্লাহকে এবং আল্লাহর রসুলকে আর ঈমানদার লোকদেরকে, তারাই আল্লাহর দল এবং আল্লাহর দলই থাকবে বিজয়ী ''
( সূরা আল মায়িদা,আয়াত-৫৫-৫৬)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

মনে রেখো যারা আল্লাহর (ওলি) বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।
সুরা ইউনুস - ৬২

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ্ তা’আলা বলেন: যে ব্যক্তি আমার অলীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।
(বুখারী - ৬৫০২)
====================
আল্লাহ আমাদের কুরআন ও হাদীসের অনুসরণ করার জন্য হেদায়েত দান করুন।
আমিন।

পবিত্র ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম


পবিত্র ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম 

----------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
----------------------
#ফাতিহা_ইয়াজদহম 
১১ই রবিউস সানী অর্থাত রবিউস সানী মাসের এগার তারিখ ( ১০ তারিখ দিবাগত রাত্র ) 'ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম' । হয়ত অনেকেই জানেন না ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম কী। তাই আজকের এই পোষ্ট লিখার ইচ্ছা করলাম। পাঠকের বিপুলতাই আমার লিখনীর সার্থকতা মনে করব ।
ফাতেহা এর অর্থ দোয়া করা, সাওয়াব রেসানী করা, মোনাজাত করা ইত্যাদি। আর ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ - 'এগার তারিখের ফাতেহা'। মোটকথা ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম বলতে এগারো তম দিনের সাওয়াব রেসানীর উদ্দেশ্যে কর্মসূচীকেই বুঝায়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম হলো ইমামুল আউলিয়া পীরানে পীর গাউসুল আযম দস্তগীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি রহমতুল্লা আলাইহি-এর ওফাত দিবস স্মরণে কর্মসূচী ।
যদিও উনার জীবনী এই পোষ্টের মুখ্য উদ্দেশ্য নয় তার পরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি উনার পিতা মাতাকে। হজরত আবদুল কাদের জিলানী রহ.-এর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ (রহঃ) এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা (রহঃ)।
হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহঃ) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমির (রহঃ) কাছে মারেফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন। পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ভুলে মানুষ যখন বিপথে পা বাড়িয়েছিল, ঠিক এমনি সময় হজরত বড়পীর (রহঃ) ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দিয়েছিলেন। বিপথগ্রস্ত মুমিনদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে ইসলামকে পূনরুজ্জীবিত করেছিলেন। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তিকাল করেন।মুমিন মাত্রই প্রতি বছর ১১ রবিউস সানি ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম পালন করার মাধ্যমে হজরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ).-কে পরম ভক্তি, শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে।

হযরত বড়পীরের শানে চিশতীয়া তরিকার ইমাম হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী (রাহঃ) এর ১টি বাণী
'ইয়া গাউসে মো আযম নুরে হোদা
মোখতারে নবী মোখতারে খোদা' ।
অর্থ:
ইয়া গাউসে আযম! হেদায়েতের নুর,
নবীজীর মনোনীত ও আল্লাহর মনোনীত।
---------------------
ইয়া আল্লাহ্ আমাকে গাউছে পাকের বেলায়তী কদম তলে স্থান দান করুন । আমিন ।

__