সুরা আন-নাজম ০১-১৮


সুরা আন-নাজম ০১-১৮
----------------
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহর নামে আরম্ভ যিনি পরম দয়ালু ,করুণাময়
 وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى53.1
উচ্চারণ-  অন্নাজমি ইযা-হাওয়া-
উজ্জল নক্ষত্র(মুহম্মদের) শপথ যখন (তিনি মেরাজ থেকে) অবতরণ করেন
 مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى53.2
উচ্চারণ -  মা-দ্বোয়াল্লা-ছোয়া-হিবুকুম্ অমা-গাওয়া-
তোমাদের 'সাহিব' না পথভ্রষ্ট হয়েছেন, না বিপথে চলেছেন
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى53.3
উচ্চারণ - অমা-ইয়ান্ত্বিকু ‘আনিল্ হাওয়া-
এবং তিনি কোন কথা নিজ প্রবৃত্তি থেকে বলেন না
 إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى53.4
উচ্চারণ - ইন্ হুওয়া ইল্লা-ওয়াহ্ইয়ুইঁ ইয়ূহা-
তাতো নয় , কিন্তু ওহীই যা তার প্রতি (নাজিল)করা হয়
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى53.5
উচ্চারণ - ‘আল্লামাহূ শাদীদুল্ কুওয়া-
তাকে শিক্ষা দিয়েছে প্রবল শক্তি সমুহের অধিকারী,
 ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى53.6
উচ্চারণ - যূ-র্মিরাহ্ফাস্তাওয়া-
শক্তিমান  অতঃপর ওই জ্যোতি ইচ্ছা করলেন
وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى53.7
উচ্চারণ - অহুওয়া বিল্উফুক্বিল্ ‘আলা-
আর তিনি ঊর্ধ্ব আকাশে সর্বোচ্ছ দিগন্তে ছিলেন
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى53.8
উচ্চারণ - ছুম্মা দানা-ফাতাদাল্লা-
অতঃপর  সেই জ্যোতি নিকটবর্তী হলোঅতঃপর খুব নেমে আসলো
فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى53.9
উচ্চারণ - ফাকা-না ক্ব-বা ক্বাওসাইনি আও আদ্না-
অতপর সেই জ্যোতি ও মাহবুবের মঘ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইলবরং আরও কম
فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى53.10
উচ্চারণ - ফাআওহা  ইলা-‘আব্দিহী মা  আওহা-
তখন ওহি করলেন তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার ছিল
مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى53.11
উচ্চারণ - মা-কাযাবাল্ ফুয়া-দু মা-রায়া-
অন্তর মিথ্যা বলেনি যা দেখেছে
أَفَتُمَارُونَهُ عَلَى مَا يَرَى 53.12
উচ্চারণ - আফাতুমা-রূনাহূ ‘আলা-মা-ইয়ারা-
তবে কি তোমরা তার সাথে তিনি যা দেখেছেন তাতে বিতর্ক করছো ?
 وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى53.13
উচ্চারণ - অলাক্বদ্ রায়া-হু নায্লাতান্ উখ্রা-
এবং তিনি তো  ওই জ্যোতি আরেকবার দেখেছেন
عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى53.14
উচ্চারণ - ‘ইন্দা সিদ্রতিল্ মুন্তাহা-
সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে
عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى53.15
উচ্চারণ - ‘ইন্দাহা-জ্বান্নাতুল্ মাওয়া-
যার কাছে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত
إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى53.16
উচ্চারণ - ইয্ ইয়াগ্শাস্ সিদ্রতা মা-ইয়াগ্শা-
যখন সিদ্রার উপর আচ্ছন্ন করেছিলো যা আচ্ছন্ন করার ছিলো 
 مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى53.17
উচ্চারণ - মা-যা-গল্ বাছোয়ারু অমা-ত্বোয়াগা-
চক্ষু না কোনদিকে ফিরেছে না  সীমা অতিক্রম করেছে
 لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى53.18
উচ্চারণ - লাক্বদ্ রয়া-মিন্ -ইয়া-তি রব্বিহিল্ কুব্র-
নিশ্চয় তিনি তার রবের বড় নিদর্শনসমূহ দেখেছেন
---------------------------
(সুরা আন-নাজম ০১-১৮)

বড় বড় রোগ থেকে আরোগ্যের দোয়া ও অজিফা



রজব মাসের করনীয় কিছু আমল ও দোয়া



রজব মাসের বিশেষ দোয়া - DUA FOR RAJAB MONTH


আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান
অর্থাৎ -
হে আল্লাহ আপনি রজব ও শাবান মাসে আমাদের উপর বরকত দান করুন এবং মহিমাম্বিত রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন । আমিন ।
রজব ও শাবান মাসে এই দোয়াটি যথেষ্ট পরিমানে পাঠ করুন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এই মাসে এই দোয়া সর্বাধিক পাঠ করতেন । আপনিও পড়ুন অপর ভাইবোনকেও শেয়ার করুন।
আপনার সেভ কলামে সংগ্রহ করে রাখুন । রমজান পর্যন্ত এই দোয়া পড়তে থাকুন । রজব মাস শেষ হলে "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শাবান ওয়া বাল্লিগানা রামাদান " । এতটুকু পড়বেন।
আল্লাহ্ সকল মুসলিম নরনারীকে এই দোয়া পড়ার জন্য হেদায়েত দান করুন।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়ালাহুল হামদু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। এক'শ বার

100 time  لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়ালাহুল হামদু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। এক'শ বার তিলাওয়াত।



লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু

About Rawda-E- Rasul sallallahu alaihi wasallam

রওজা-এ-রসুল সাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম উনার সচিত্র প্রতিবেদন। উর্দু ভার্সন

ইসলামে শরীয়তের দলীল চার প্রকার।

ইসলামে শরীয়তের দলীল চার প্রকার।
(১) কুরআন 
(২) সুন্নাহ্
(৩) ইজমা
(৪) কিয়াস
^^^^^^^^^
#কুরআন
#সুন্নাহ্
#ইজমা
#কিয়াস

আহকামে শরিয়ত


আহ্‌কাম
-------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-------------------------
#আহ্‌কামে_শরিয়ত
ইসলামী শরীয়াতের বিধান মতে মানুষের কাজগুলো দু'ভাগে বিভক্তঃ
[ ১ ] মাসরু (শরিয়াত সম্মত)
[ ২ ] গাইর মাশরু (শরিয়াত পরিপন্থী)


মাসরু বা শরীয়াত সম্মত কার্যাবলী ৬ ভাগে বিভক্ত । যথাঃ 
(১) ফরজ,
(২) ওয়াজিব,
(৩) সুন্নাত,
(৪) মুস্তাহাব,
(৫) মুস্তাহ্‌সান,
(৬) মুবাহ্‌ ।


গাইরে মাশরু
গাইরে-মাশরু বা শরীয়াত পরিপন্থী কাজ গুলো দুইভাগে বিভক্তঃ

১) মাকরুহ
২) হারাম


-----------------------------
বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে 

(১) ফরজ, 
-------
https://www.facebook.com/groups/175477709627957/permalink/295880137587713/

(২) ওয়াজিব, 
------------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312229459277082/

(৩) সুন্নাত
---------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312614972571864/

(৪) মুস্তাহাব
-------------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312618495904845/

(৫) মুস্তাহ্‌সান
--------
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312627769237251/

(৬) মুবাহ্‌ ।
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/312634515903243/

(১) মাকরুহ
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/313915829108445/
(২) হারাম
https://www.facebook.com/groups/173687513131278/permalink/313918325774862/



. ফরজ
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#ফরজ
ফরজ অর্থ অবশ্য পালনীয় । আল্লাহ, তায়ালার অলঙ্ঘনীয় আদেশ । যা দলিলে কাত্‌ঈ (অকাট্য দলীল দ্বারা প্রামানিত) । আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলমানের প্রতি তা অপরিহার্য কর্তব্য বলে ঘোষণা করেছেন । যার অস্বীকারকারী কাফির বলে গণ্য হবে । এর তরককারীর জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে । শরীয়াতের পরিভাষায় এ জাতীয় ব্যক্তিকে 'ফাসিক' বলা হয় । দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রামাযান মাসের রোযা, বাৎসরিক উদ্বৃত্ত নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদের যাকাত দান, সামর্থ হলে জীবনে একবার হজ্জ আদায় করা ফরজ । ফরজ দুই প্রকারঃ
#ফরজে_আইন
ফরজে আইন যা প্রত্যেকের উপর ফওজ । এ শ্রেণীর ফরজ কাজ এককভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে আদায় করতে হয়ে । যেমন নামায, রোযা ইত্যাদি ।
#ফরজে_কিফায়া
ফরজে কিফায়া যা সমাজের সকলের প্রতি এ কাজ ফরজ । তবে সমাজের কিছু লোক তা আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে । কিন্তু কেউ যদি আদায় না করে, তবে সমাজের সকলেই গুনাহগার হবে । যেমন- জিহাদ, জানাযার নামাজ ।
------------------------------


ওয়াজিব
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#ওয়াজিব
ওয়াজিবও ফরজের মত অবশ্য পালনীয় । তবে গুরুত্বের দিক থেকে ফরজের পরে ওয়াজিবের স্থান । বিনা কারনে তা পরিত্যাগ করলে ফাসিক হবে এবং কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধী বলে বিবেচিত হবে । ওজরবশতঃ ছুটিয়া গেলে পরে ক্বাযা করিতে হইবে । শরীয়াতের ওয়াজিব বিধানকে গুরুত্বহীন মনে করা সরাসরি গোমরাহি । তবে কোনরূপ তাবীলের আশ্রয় নিয়ে অথবা সন্দেহ মূলে ওয়াজিবকে ইনকার (অস্বীকার) করলে কাফির হবে না । যেমন বিতরের তিন রাক'আত নামায । নামাজের প্রত্যেক রাক'আতে সূরা ফাতিহা পড়া ।
-------------------------------


সুন্নাত

-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#সুন্নাত

যে সকল কাজ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বা তাঁহার আসহাবগণ করিয়াছেন তাহাকে 'সুন্নাত' বলে । হাদিস শরিফে বর্নিত আছে
তোমাদের প্রতি অবশ্যকর্তব্য আমার সুন্নাত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের অনুসরণ করা
সুন্নাত দুই প্রকারঃ
১) #সুন্নাতে_মুওয়াক্কাদাহ্‌
যে সকল কাজ রাসূল (সঃ) ও তাঁর আসহাবগণ সর্বদা আমল করিয়াছেন এবং বিনা ওজরে কোণ সময় ছাড়েন নাই উহাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ বলে; যেমন আযান, ইক্কামত, খতনা, নিকাহ্‌ ইত্যাদি । সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ আমলের দিক দিয়া ওয়াজিবেরই মত; অর্থাৎ যদি কেউ বিনা ওজরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্‌ ত্যাগ করে অথবা তরক করার অভ্যাস করে তবে সে কঠিন গোনাহগার হইবে এবং হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর খাছ শাফায়াৎ থেকে বঞ্চিত হইবে । কিন্তু ওয়াজিব তরকের গোনাহ হইতে কম গোনাহ হইবে এবং কখনও ওজর বশতঃ ছুটিয়া গেলে ক্বাযা করিতে হইবে না । যেমন ফজরের ২ রাকাত সুন্নত নামাজ ।
২) #সুন্নাতে_গাইরে_মুওয়াক্কাদাহ্‌
যে সকল কাজ রাসূল (সঃ) এবং তাঁহার আসহাবগণ(রাঃ) করিয়াছেন তবে ওজর ছাড়াও কোন কোণ সময় তরক করিয়াছেন তাহাকে সুন্নাতে গাইরে-মুওয়াক্কাদাহ্‌ বলে । ইহাকে #সুন্নাতে_যায়েদা বা সুন্নাতে আদীয়াও বলে । ইহা পালন করিলে সওয়াব আছে কিন্তু না করিলে গোনাহ নাই ।
যেমন আসরের চার রাকাত সুন্নত নামাজ।
--------------------------------


মুস্তাহাব
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#মুস্তাহাব
যে কাজ রাসূল (সঃ) বা তাঁর আসহাবগণ করিয়াছেন কিন্তু হামেশা বা অধিকাংশ সময় করেন নাই। অন্যকে আমল করিতে উৎসাহ দিয়াছেন কিন্তু তাক্বিদ করেন নাই তাহাকে মুস্তাহাব বলে । মুস্তাহাবকে নফল বা মন্দুবও বলা হয় ।মুস্তাহাব এমন আমল যা পালন না করলে কোনো শাস্তি পেতে হবে না। কিন্তু পালন করা ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম।মুস্তাহাব কাজ করলে সওয়াব ও আল্লাহর দরবারে পুরস্কার আছে।মুস্তাহাব ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়।
----------------------------



মুস্তাহ্‌সান (নফল)

-----------------------------#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ-----------------------------
#মুস্তাহ্‌সান (#নফল)

যে সব কাজ উলামায়ে মুতাকাদ্দিমীন ও মুতাআখ্‌খিরীন (পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শরীয়াত বিশেষজ্ঞগণ) পবিত্র কুরআন, হাদীস ও সুন্নাতের আলোকে ভাল বলে গ্রহণ করেছেন । মুস্তাহ্‌সান পালনে সওয়াব আছে, তবে ছেড়ে দিলে কোন গুনাহ নেই।
--------------------

মুবাহ (বৈধ) 

-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#মুবাহ (#বৈধ) 

সব জিনিসের ব্যাপারেই মৌল নীতি হচ্ছে– তা #মুবাহ(বৈধ)
যে কাজ করাতে কোন সাওয়াব নেই আর না করাতে কোন গুনাহ নেই শরীয়াতের পরিভাষায় সেসব কাজকে মুবাহ্‌ বলা হয় । ইচ্ছা করলে তা করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা নাও করতে পারে । মোবাহ্‌ কাজ যথাঃ মাছ মাংস খাওয়া, পানাহার করা, কৃষিকর্ম করা, ব্যবসায় বাণিজ্য করা, দেশ ভ্রমণ করা, আল্লাহ্‌র সৃষ্টি দর্শন করা । মোবাহ্‌ কাজের সঙ্গে যদি ভাল নিয়ত ওভাল ফল সংযুক্ত করা হয়, তবে তাহা সওয়াবের কাজ হইয়া যায় আর যদি মন্দ ফল সংযুক্ত হয় তাহলে তবে তাহা গোনাহের কাজ হইয়া যায় । যথা- যদি কেহ এলেম হাসিল করিবার জন্য, ইসলামের খেদমত করিবার জন্য, জেহাদ ও তবলীগ করিবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য খাইয়া, ব্যায়াম করিয়া শরীর মোটাতাজা ও স্বাস্থ্য ভাল করে, তবে সে ছওয়াব পাইবে । আর যদি কেহ পরস্ত্রী দর্শন করিবার জন্য ভ্রমণ করে বা নাজায়েজ খেলায় যোগদান করে, তবে তাহাতে গোনাহ্‌ হইবে ।
--------------------------


মাকরুহ
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#মাকরুহ
মাকরুহ অর্থ খারাপ বা নিন্দনীয়।
মাকরুহ এমন আমল যা পালন করার তুলনায় না করা উত্তম। অর্থাৎ যে কাজ করা জায়েজ কিন্তু না করা উত্তম। মাকরুহ কাজ করলে শাস্তি পেতে হবে না, কিন্তু এ ধরনের কাজ এড়িয়ে যেতে বলেছে ইসলাম।যেমন উদাহরন স্বরুপ বলতে পারি,আসরের ফরজ নামাজের পরে সুর্য ডুবা পর্যন্ত নামাজ (সিজদা) মাকরুহ্ (অঅনুমোদিত)।মাকরুহ্ হারামও নয় আবার হালালও নয় । তবে হালালের সাথে সংঘর্ষিত । এড়িয়ে চলাই উত্তম ।
ইসলামে নিষিদ্ধ ব্যাপারগুলো তিন পর্যায়ের : হারাম, মাকরুহ তাহরীমী,ও মাকরুহ তানজীহী।
মাকরুহ অর্থ খারাপ বা নিন্দনীয়। তাহরীমী অর্থ হারামকারী অর্থাৎ যে মাকরুহ হারামের কাছাকাছি।
যে সকল কাজ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ নেই, তবে কোন কোন হাদীসে এর প্রমাণ পাওয়া যায় তাকে মাকরুহ তাহরিমী বলে।
যে সকল কাজ শরীয়তের দৃষ্টিতে ঘৃণাজনক কিন্তু এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষ কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বরং পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাকে মাকরুহ তানজীহী বলে।
আদর্শ মুসলমানগণ মাকরুহ তানজীহীও পরিত্যাগ করেন।
কিছু কিছু মাকরুহ্ এর কারনে ফরজ ও মাকরুহ্ হয়ে যায় । য়েমন :-
সিয়াম পালন অবস্থায় যেসব কাজ করা অপছন্দনীয়। এ জাতীয় কাজ সিয়াম ভঙ্গ করে না কিন্তু এসব চর্চা করা কখনো কখনো সিয়াম বিনষ্টের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
উদাহরন স্বরুপ বলতে পারি , রোজা অবস্থায় অযুর সময় গড়গড়া করে কুলি করা, জোড় দিয়ে নাকে পানি টানা। এতে গলা বা নাক দিয়ে ভিতরে পানি প্রবেশ করার সম্ভাবনা থেকে যায়।
----------------------------
আল্লাহ্ আমাদেরকে মাকরুহ্ থেকে হেফাজত করুন । আমিন ।

হারাম
-----------------------------
#রসুল_সঃ_এর_সুন্নত_ই_আদর্শ
-----------------------------
#হারাম একটি আরবি ইসলামি পরিভাষা। এ দ্বারা নিষিদ্ধ কাজ বোঝানো হয়। মন্দ কাজসমূহের মধ্যে হারামকে সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদি কোনো কাজ হারামের মধ্যে পড়ে তবে তা যেকোনো ভালো উদ্দেশ্যেই করা যায় না। তবে ব্যক্তি নিরূপায় হয়ে হারাম কাজ করলে তা পাপ হিসেবে গণ্য হয় না। হারাম বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কিছু হারাম বিষয় ইজতিহাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এসকল ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাজহাবে নিয়মের পার্থক্য হতে পারে।
#হারাম কাজ সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। কতিপয় হারাম কাজের জন্য শরিয়া কর্তৃক শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া ইসলাম অনুযায়ী হারামে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য মৃত্যু পরবর্তী সময়ে শাস্তির কথা বলা আছে। হারাম কাজের মধ্যে রয়েছে মানুষ হত্যা, চুরি-ডাকাতি, মদপান, সুদের লেনদেন, ঘুষ আদানপ্রদান, ধর্ষণ, ব্যভিচার, মৃত পশুপাখির মাংস খাওয়া প্রভৃতি।
#হারাম ফরযের ও হালালের বিপরীত । যদি কেহ হারাম কাজ অস্বীকার করে অর্থাৎ যদি কেহ হারাম কাজকে হালাল এবং জায়েজ মনে করে, তবে সে কাফের হইবে । আর যদি বিনা ওজরে হারাম কাজ করে কিন্তু অস্বীকার না করে অর্থাৎ হারামকে হালাল মনে না করে, তবে সে কাফির হইবে না, ফাসেক হইবে, শাস্তির উপযুক্ত হইবে । হারামকারী ইসলামে গুনাহ্গার বলে বিবেচিত।
------------------------------

ইসলামের আলোকে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা



গত শতাব্দীতে আমেরিকায় শিকাগো শহরে অধিকার আদায়ের একটি মিছিলে গুলি করে হত্য করা হয় কয়েকজন নিরীহ শ্রমিককে । পরবর্তীতে এই ঘঠনাকে কেন্দ্র করে দিনটিকে শ্রমিক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। বর্তমানে বিশ্ব যখন একটি ছোট্ট গ্রামে (গ্লোবাল ভিলেজ) পরিণত হয়েছে। একটির সঙ্গে আরেকটির সীমান্ত লাগানো। এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের স্বার্থ জড়িত। তখন শ্রম দিবস পালিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। ইংরেজি বর্ষের পঞ্চম মাস মে'র প্রথম দিনটি পালিত হয় আন্তর্জাতিক অ্রমিক দিবশ হিসাবে। এমতাবস্থায় আমাদের কর্তব্য আন্তর্জাতিক সন্মান, শ্রমিক ও মানবাধিকার প্রভৃতি দিবশ উপলক্ষে ইসলামের শ্রমিকের অধিকার কিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে তা সবার সামনে উপস্থাপন করা। কারণ ইসলামই সেই ধর্ম প্রথম যে মানবাধিকারের বিধান প্রবর্তন করেছে। যেমন ইসলামই শ্রম ইতিহাসে সর্বপ্রথম শ্রমিকের প্রতি যথার্থ দৃষ্টি দিয়েছে। তাকে দিয়েছে সন্মান ও মর্যাদা আর শ্রমের স্বীকৃতি। পক্ষান্তরে কোন কোন সনাতন ধর্মে শ্রমের অর্থ ছিল দাসত্ব বশ্যতা । আবার কোন ধর্মে এর অর্থ ছিল লাঞ্চনা ও অবমাননা ।ইসলাম সমাজে আর দশজন সদস্যের মত নাগরিক হিসাবে তাদের প্রকৃতিক অধিকারগুলোর স্বীকৃতি দিয়েছে। তেমনি শ্রমিক হিসাবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে অনেক মূলনীতি ও বিধিও প্রবর্তন করেছে। যাতে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা হয়। তাসের ইহ ও পরকালীন জীবনে তাদের ও তাদের পরিবারের সন্মানিত জীবন লাভ হয়। এভাবে ইসলাম শ্রমগ্রহীতার প্রতি আহবান জানিয়েছে শ্রমিকের সঙ্গে মানবিক ও সন্মান জনক আচরণ করতে। তার প্রতি মমতা দেখাতে । তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাকে বারণ করেছে তার সাধ্যাতীত কাজের নির্দেশ প্রদান থেকে। এমনকি নানা অধিকার সুযোগ নিশ্চিত করেছে ইসলাম শ্রমিকের জন্য। শ্রমগ্রহীতার কাধে যা সব বাধ্যবাদকতা আরোপ করা হয়েছে তার মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ভ হল শ্রমের মুল্য বা মজুরী । সেহেতু ইসলাম এর প্রতি অত্যদিক গুরুত্ব আরোপ করেছে।আমরা দেখেছি ইসলাম কিভাবে কাজ বা শ্রমকে ইবাদত হিসাবে গন্য করে। কীভাবে একে সকল ইবাদতের ওপর স্থান দেয়।আর শ্রমের এই পবিত্র দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ইসলাম শ্রমিকের মজুরী বা পারিশ্রমিককেও পবিত্র ঘোষনা করে।উদ্বুদ্ধ করে যাতে সকল শ্রমিককে তার শ্রমের মুল্য পরিশোধ করা হয়। পবিত্র কুরআনে অনেক যায়গায় 'আযর' বা বিনিময় শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে। আবার অসংখ্য হাদিসেও শ্রমের বিনিময়ের প্রতি বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শ্রমিকের অধিকার আদায়ে রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর ঘোষণা
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, শ্রমিকের গায়ের গাম শুকিয়ে যাওয়ার আগে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও 
(ইবনে মাজাহ)
রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই আল্লাহ তায়ালা যে ভাইকে তোমার অধীন করে দিয়েছেন তাকে তা- খেতে দাও, যা তুমি নিজে খাও, তাকে তা- পরিধান করতে দাও, যা তুমি নিজে পরিধান কর।” (বুখারী)
কিয়ামতের দিন শ্রমিকের পক্ষে মহান আল্লাহ দাঁড়াবেন 
'হযরত আবু হুরাইরা রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সা বলেছেন যে, মহান আল্লাহ ফরমান জারি করেছেন যে কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেব
. যে ব্যক্তি আমার নামে শপথ করে, প্রতিশ্রুতি দেয় অতঃপর ওয়াদা ভঙ্গ করে 
. যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন লোক কে বিক্রি করে মূল্য খেয়ে ফেলল (তাকে কৃতদাস বাণিয়ে দিল) এবং 
. যে ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ আদায় করে নিল কিন্তু শ্রমের পারিশ্রমিক প্রদান করল না 
(বুখারী-মুসলিম)
ইসলামের ইতিহাস পড়লে আমরা দেখি শ্রমের দাতা ও গ্রহিতার মধ্যে বৈষম্য ইসলামে ছিলনা এবং নেই যেমন নিচের কিছু ঘঠনা পড়ে অনুমান করতে পারেন। নবী-রাসূলগণ শ্রমিকদের কত মর্যাদা দিয়েছেন ইসলামের সব নবী ছাগল চরিয়ে নিজে শ্রমিক হয়ে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন
হযরত আবু হুরাইরা (রঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী (সঃ)  থেকে বর্ণনা করেছেন যে রাসূল (সঃ) বলেছেন আল্লাহ তায়ালা যথ নবী পাঠিয়েছেন সকলে ছাগল চরায়েছেন সাহাবীগণ বললেন হে আল্লাহর রাসূল আপনিও কি চরায়েছেন ? তখন রাসূল সা বললেন হ্যাঁ! আমি কয়েক কেরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরায়েছি (শ্রম খেটেছি) 
তাহলে বুঝা যায় মুসলিম কোন প্রকারেই শ্রমিককে হেয় করতে পারেনা।
মালিক হযরত শোয়াইব (আঃ) তাঁর মেয়ের বিয়ে দিয়ে শ্রমিক নবী মূসাকে (আঃ) জামাই বানিয়েছেন
রসুল (সঃ) শ্রমিক যায়েদ (রাঃ)-এর কাছে আপন ফুফাতো বোন জয়নবের বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি (সঃ) যায়েদকে (রাঃ) মুতারের যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন
ইসলামের প্রথম মোয়াজ্জিন বানানো হয়েছিল শ্রমিক হযরত বিলালকে (রাঃ)
মক্কা বিজয় করে কাবা ঘরে প্রথম প্রবেশের সময় মহানবী (সা.) শ্রমিক বেলাল (রাঃ) শ্রমিক খাব্বাবকে (রাঃ ) সাথে রেখে ছিলেন নবীজী কখনো নিজ খাদেম আনাসকে (রাঃ) ধমক দেননি এবং কখনো কোনো প্রকার কটুবাক্য কৈফিয়ত তলব করেননি
আরো অসংখ্য হাদিসে আমরা দেখতে পাই শ্রমিকের মর্যাদা কত উর্ধে । তাই পহেলা মে তথাকথিত শ্রমিক দিবস পালন নয় । ইসলাম ও শ্রমিকের অধিকার পর্যালোচনার দিবস বলেই আখ্যেয়িত করা যুক্তিযুক্ত।

__